
আধুনিক সাম্রাজ্য সবসময় প্রতীকের প্রেমে পড়ে। বিশাল তোরণ, সামরিক কুচকাওয়াজ, সোনালী ভাষণ— সবকিছুই শক্তির প্রদর্শন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি যখন নিজের “বিজয় তোরণ” কল্পনা করছেন, তখন বাস্তব পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকেত তৈরি হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে।
ওয়াশিংটন বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। “প্রজেক্ট লিবার্টি” নামের নৌ-অভিযানকে উপস্থাপন করা হচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য রক্ষার মিশন হিসেবে। কিন্তু অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা গোটা অঞ্চলকে আবার উত্তপ্ত করে তোলে।
সরকারি বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে স্থিতিশীলতার দাবি, অন্যদিকে তেলের বাজারে আতঙ্ক। হরমুজ প্রণালিতে প্রতিটি উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এখানেই ইরানের প্রকৃত শক্তি। এটি কেবল পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্ন নয়। বরং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুটকে অচল করার ক্ষমতা। তেল সরবরাহে সামান্য বাধাও পশ্চিমা অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্প জানেন, আরেকটি স্থলযুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হবে। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার পর আমেরিকান জনগণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ক্লান্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন হুমকি ও আলোচনার মাঝখানে দোদুল্যমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
অন্যদিকে তেহরানও বুঝে গেছে— আমেরিকাকে সামরিকভাবে হারানো জরুরি নয়। বরং বিশ্বকে মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট যে ইরান চাইলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
সরকারি বিবৃতিতে শান্তি ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাজার বক্তৃতা শোনে না। বাজার ঝুঁকি দেখে। আর সেই ঝুঁকি এখনো ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের মাঝখানে ভাসছে।
সম্ভবত ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এটিই: আধুনিক সাম্রাজ্য শুধু বোমাকে নয়, তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও ভয় পায়।
© ২০২৬ বিশ্বব্যবস্থার পর্যবেক্ষক – সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
© 2026 SalaStampa.eu, world press service – All Rights Reserved – Guzzo Photos & Graphic Publications – Registro Editori e Stampatori n. 1441 Turin, Italy
এখানে খাবার সংস্কৃতির ভাষা বলে”
